1. [email protected] : admin :
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাখাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন- এমপি শাওন করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় নি: তোফায়েল আহামেদ লালমোহনে ধর্ষণ প্রতিরোধে তরুন সমাজের ভূমিকা ও আইনগত প্রতিকার শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত পুলিশ ভেবে নদীতে ঝাঁপ, একদিন পর লাশ হয়ে ফিরলেন জেলে ছোট ভাইয়ের রডের আঘাতে বড় ভাই নিহত বরিশালে জেলেদের হামলায় মৎস্য কর্মকর্তাসহ আহত ৩ বরিশালে দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে নৌকার জয় তজুমদ্দিনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে আরো ১৬ জেলের দন্ড মনপুরায় ২২শত জেলের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরন করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে: তোফায়েল
বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের পত্রিকায় আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন [email protected] অথবা [email protected]
শেবাচিমের মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্য, নির্ধারিত ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাধ্য

শেবাচিমের মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্য, নির্ধারিত ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাধ্য

আল মামুন, ব্যুরো চীফ(বরিশাল)

শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন নষ্ট হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লুটছে (উপরি ইনকাম) মেডিসিন ওয়ার্ডের কতিপয় চিকিৎসক।

হাসপাতালের ইনডোরের সিও রেজিষ্ট্রার পদবীর চিকিৎসকরা ইন্টার্নি ডাক্তার দিয়ে সিটি স্ক্যান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা লেখিয়ে পছন্দের (নির্ধারিত) ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দীর্ঘদিন যাবত কমিশন বাণিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওইসব ওয়ার্ডের আয়া-বুয়ারাও মোটা অঙ্কের কমিশন নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রোগীর স্বজনদের দাবী- আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দালাল আটক অভিযানের পূর্বে ওইসব চিকিৎসক, আয়া ও বুয়াদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো উচিত।
রোগীরা জানান- চিকিৎসাপত্রের সাথে পৃথক টোকেনে নাম লিখে দেয়ার কারণে তারা তাদের পছন্দসই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করাতে পারছেন না। এমনকি অন্যত্র সিটি স্ক্যান বা পরীক্ষা নিরীক্ষা করলে তাদের পরীক্ষার রিপোর্ট ছুড়ে ফেলে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে চিকিৎসকদেও বিরুদ্ধে।

শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইনডোরে চিকিৎসা দেয়া ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৯টি। এর মধ্যে মেডিসিন-১, মেডিসিন-৩ ও মেডিসিন-৪ নাম্বার ওয়ার্ডের সিও রেজিস্ট্রার ডা: মাসুদ খান, ডা: মাহফুজ খান, ও ডা: মনিরুজ্জামান। তারা সপ্তাহের শনি, সোম ও মঙ্গলবার এই তিন ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করেন।

সরেজমিনে হাসপাতালে দেখা গেছে, ফিমেল মেডিসিন ইউনিটের-৪ নাম্বার ওয়ার্ডে সুমাইয়া নামের ১৫বছরের এক রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি ট্রিপ ধরিয়ে দিয়ে লাইফ সিটি স্ক্যান সেন্টার নামক একটি ডায়াগনস্টিকের নাম লিখে দিয়েছে ডাক্তার। একই চিত্র দেখা গেছে আরো কয়েকটি ট্রিপে।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম লিখে দেয়ার ব্যাপারে রোগী সুমাইয়ার স্বজনরা জানান, ট্রিপে টেস্টের নাম লিখে দেয় জানতাম; কিন্তু ল্যাবের নাম লিখে দেয়া হয় তা দেখলাম এই প্রথম।

মেডিসিন-৩ ও ৪ এর আরও কয়েকটি ট্রিপে বরিশাল সিটি স্ক্যান সেন্টার ও লাইফ সিটির নাম দেখা গেছে।

হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, শেবাচিম হাসপাতালের সামনে এই দুটি সিটি স্ক্যান সেন্টারের মেশিনই সব থেকে পুরাতন এবং অল্প ক্ষমতাসম্পন্ন মাল্টি ¯øাইজের। মাল্টি ¯øাইজের মেশিন হওয়ায় ফিল্ম চারভাগে ভাগ করে রিপোর্ট করায় অনেক সমস্যা ধরাও পরে না। ফলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে এর থেকে আধুনিক মেশিন থাকা সত্তে¡ও সেখানে না পাঠিয়ে বেশি কমিশনের আশায় ওইসব ল্যাবে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন মেডিসিন ১, ৩ ও ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাইফ ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের এক কর্মচারি জানান, লাইফ এইড সিটি স্ক্যান সেন্টার প্রতিটি সিটি স্ক্যান বাবদ ছয় থেকে আটশ’ টাকা মেডিসিন ওয়ার্ডের ডাক্তারদের কমিশন দিতে হয়। যে কারনে মেডিসিন, ১, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চিকিৎসকেরা সরাসরি লাইফ এইড এবং বরিশাল সিটি সেন্টারের নাম লিখে দেন।

অপর একটি সূত্র জানায়, প্রতিদিন সিটি স্ক্যান ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে ওই তিন ওয়ার্ডের সিও, রেজিস্ট্রার ও চিকিৎসকরা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা কমিশন পেয়ে থাকেন।

লাইফ সিটি স্ক্যানের এক কর্মকর্তা জানান, শেবাচিম হাসপাতালের সিও রেজিষ্টার ডা: মাসুদ এবং লাইফ সিটির মালিক মাহাবুবের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে বেশি কমিশনের চুক্তিতে তার কাছে আসা অধিকাংশ রোগী সেখানে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, মেডিসিন-৪ এর চিকিৎসক ডা: মাসুদ ও মেডিসিন-৩ এর চিকিৎসক ডা: মাহফুজ নগরীর চাঁদমারি রোডের মাদ্রাসা গলির একই ভবনে থাকার সুবাদে দুইজন মিলে মেডিসিন ইউনিটগুলোকে কমিশন বাণিজ্যে রূপ দিয়েছে।

এ বিষয়ে শেবাচিমের মেডিসিন-৪ এর সিও রেজিস্ট্রার ডা: মাসুদ খান জানান, তার স্বাক্ষরিত কোনো ট্রিপে ল্যাবের নাম নেই। রোগী জানতে চাইলে মাঝে মধ্যে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম বলে দেন। রোগী প্রতি কমিশন বাণিজ্যের কথা জানতে চাইলে তিনি কোন ধরনের মন্তব্য না করে ফোনের লাইন কেটে দেন।

শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ডা: বাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি খুবই দু:খজনক। যেহেতু হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন নষ্ট তাই রোগী যেখানে খুশী সেখানে যাবেন। নাম লিখে দেবেন কেন ?

তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগ প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসাথে ইনডোর ও আউট ডোরের আয়া-বুয়াদের বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন পরিচালক।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বশেষ খবর

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © monpuratimes.com 2020.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com