1. [email protected] : admin :
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাখাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন- এমপি শাওন করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় নি: তোফায়েল আহামেদ লালমোহনে ধর্ষণ প্রতিরোধে তরুন সমাজের ভূমিকা ও আইনগত প্রতিকার শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত পুলিশ ভেবে নদীতে ঝাঁপ, একদিন পর লাশ হয়ে ফিরলেন জেলে ছোট ভাইয়ের রডের আঘাতে বড় ভাই নিহত বরিশালে জেলেদের হামলায় মৎস্য কর্মকর্তাসহ আহত ৩ বরিশালে দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে নৌকার জয় তজুমদ্দিনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে আরো ১৬ জেলের দন্ড মনপুরায় ২২শত জেলের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরন করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে: তোফায়েল
বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের পত্রিকায় আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন [email protected] অথবা [email protected]
ভোলায় স্বল্প পরিসরে দুর্গা পূজার প্রস্তুতি চলছে, লোকসানের মুখে কারিগররা

ভোলায় স্বল্প পরিসরে দুর্গা পূজার প্রস্তুতি চলছে, লোকসানের মুখে কারিগররা

অচিন্ত্য মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি(ভোলা)

করোনা প্রাদুভাবের কারনে দেরীতে হলেও শেষ সময়ে ভোলায় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলেছে। ইতোমধ্যে মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। তবে করনোর কারনে মন্ডপগুলোকে সিমীত পরিসরে অনারম্বর ভাবে পূজা আয়োজনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে করে কাজ ও সাজ সজ্জা কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছে প্রতিমা তৈরীর কারিগররা। এনকি করোনার কারনে ঘরে ঘরে নেই আগের মতো পূজার উৎসবের আমেজ।

সরোজমিনে ভোলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘুরে জানা গেছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র অল্প কয়েক দিন বাকী। এবার জেলায় ১০৫টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে গত বছরের মতো এবার ভোলার মন্ডপগুলোতে নেই বড় বাজেটে উৎসবের প্রস্তুতি। প্রতিবছর ২ মাস আগে থেকে প্রতিমা তৈরীসহ সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রাদুভাবের কারনে এবছর শেষ সময়ে শুরু হয়েছে পূজার মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ। এতে করে অল্প সময়ে প্রতিমা তৈরী করতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছে কারিগররা। তা ছাড়াও মন্ডপের সাজসজ্জা ও কাজ কমে যাওয়া লোকসানের মুখে পড়েছে তারা।

এছাড়া বিগত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমা তৈরীতে দ্বিগুন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানালেন ফরিদপুর রাজবাড়ির প্রতিমা তৈরীর ভাস্কর শিল্পী খোকন পাল। তিনি আরো জানান, গত বছর তিনি ভোলা জেলায় ১৩টি প্রতিমা তৈরীর কাজ করেন। কিন্তু এবছর করোনার কারণে দেরিতে প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু করায় মাত্র ৭টি প্রতিমা তৈরি কাজ করছেন। এতে করে রাত-দিন পরিশ্রম করেও লাভের মুখ দেখছেনা তারা।

অপরদিকে একই কথা জানালেন ওয়েষ্টার্ন পাড়া শতদল বিকাশ ক্লাব মাঠ দূর্গা পূজা মন্ডপ কমিটির সদস্য রাজন সাহা ও লক্ষন বনিক। তারা বলেন, পূজা মণ্ডপের প্রস্তুতির কাজ দুই থেকে আড়াই মাস আগে থেকে শুরু হয়। কিন্তু এবছর করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকার এবং কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের নির্দেশনার কারণে এবছর বিলম্বে পূজার আয়োজন এর কাজ শুরু হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বিগত বছরগুলোর মতো আলোকসজ্জা এবং সাজসজ্জা না করার পাশাপাশি অনাড়ম্বরভাবে দূর্গা উৎসব উদযাপন করবেন তারা। এছাড়া পূজা মণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের মাক্স পড়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার কথা জানান তারা।

শুধু মন্ডপ গুলোতেই নয় করোনার করানে এবার ভোলায় সনাতন ধমার্বলম্বীদের বাড়ি বাড়িও নেই আাগের মতো উৎসবের আয়োজন। ঘর থেকে শিশুদেরকে বাইরে বের হতে না দেয়ায় অনেকেরই নতুন পোষক কেনা হয়নি। সামাজিক দূরুত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে এবার পূজার উৎসব পালন করবে বলে জানিয়েছে তারা।

ভোলা শহরের মিহির লাল সাহার বাড়ির গৃহবধূ সরস্বতী সাহা ও কাকলী সাহা জানান, প্রতিবছর শারদীয় দূর্গা পূজা এলে তারা ঘরে ঘরে নারিকেলের নাড়ু, সাজ, মোয়াসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য তৈরি করেন। কিন্তু এবছর করোনা ভাইরাসের কারণে ঘরে ঘরে সেই উৎসবের আমেজ নেই। তারা এবছর পুজোয় ফল-ফলাদি দিয়েই দুর্গা মায়ের বন্দনা করবেন বলে জানান। মা দুর্গা করোনা ভাইরাস থেকে বিশ্ববাসীকে মুক্ত করলে আগামী বছর আবার উৎসবের আমেজে তারা দূর্গোৎসব পালন করবেন বলে জানান।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রণয় কুমার সাহা জানান, এবছর ভোলা জেলায় ১০৫টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলা ২৬টি, দৌলতখানে ৬টি, বোরহানউদ্দিনে ২০টি, তজুমুদ্দিনে ১৪টি, লালমোহনে ১৮টি, চরফ্যাশনে ১১টি ও মনপুরা উপজেলা ১০টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দূর্গা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার সাহা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ২৬ দফা নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনাড়ম্বর ভাবে এবছর শারদীয় দুর্গোৎসব আয়োজন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পূজা মণ্ডপগুলোতে সাউন্ড সিস্টেম ও সীমিত পর্যায়ে আলোকসজ্জা, জনসমাগম সীমিত রাখা ও মাদক মুক্ত পরিবেশে পূজা উদযাপনের বিষয়ে বিশেষ জোর দেয়া হযবে। পাশাপাশি সকল ধরনের প্রতিযোগিতা মূলক অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গ চন্দ্র দে জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজার উৎসব পালনে মন্ডপগুলোতে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে আমরা বৈঠক করেছি। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যে অনুদান পাওয়ার কথা সেটা পেয়েছি। পাশাপাশি ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এর পক্ষ থেকেও অনুদান পেয়েছি। নিয়ম শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, পূজার দিনগুলোতে শহর ও শহরতলীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। থাকছে র‌্যাবের বাড়তি টহল। এছাড়া, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা দেবে আনসার-ভিডিপি। বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুত সমিতি পূজার দিনগুলোতে নিরবিছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বশেষ খবর

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © monpuratimes.com 2020.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com