1. [email protected] : admin :
ভয়াল ১২ নভেম্বর: জলোচ্ছ্বাসের জলে মিশে গেছে চোখের জল | Monpura Times
সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ভোলায় যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল আদমশুমারীতে দলিতদের আলাদা তথ্য সংগ্রহের দাবীতে ভোলায় মানববন্ধন তজুমদ্দিনে অবৈধভাবে নদীর তীরের মাটি কাটায় মোবাইল কোর্টে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এইচ আর ড্রিম আইটি সলিউশনের ডে নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট এর শুভ উদ্ধোধন ও পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান – ২০২০ জুমার দিনের বিশেষ কিছু আমল উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় তথা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বিনোদনকেন্দ্রর নাম স্বপ্নপূরী দিনাজপুর জেলার সিভিল সার্জন করোনায় আক্রান্ত মনপুরায় বিজয় দিবস উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ভোলায় জঙ্গীবাদ মৌলবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন তজুমদ্দিন সরকারি হাসপাতালে বিষ পানের রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ফেরত
বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের পত্রিকায় আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন [email protected] অথবা [email protected]

ভয়াল ১২ নভেম্বর: জলোচ্ছ্বাসের জলে মিশে গেছে চোখের জল

ক্যাপশনঃ ফাইল ছবি

অচিন্ত্য মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি(ভোলা)

আজ ১২ নভেম্বর। ৫০ বছর আগে ১৯৭০ সালের এই দিনটিতে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল দ্বীপ জেলা ভোলাসহ উপকূলীয় অসংখ্য জনপদ। প্রাণহানি ঘটে ভোলার দুই লক্ষাধিকসহ উপকূলের পাঁচ লাখ মানুষের। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ওই সময় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায় এক সপ্তাহ পর। আর সেই সময়ে বেঁচে যাওয়াদের স্বজন হারানোর স্মৃতি এখনও তাদের কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। সেদিন মুহুর্তের মধ্যেই প্রলংয়নকারী ঘুর্ণী ও জলচ্ছাস উপকূলীয় জনপথগুলো মৃত্যু পুরীতে পরিনত করে দেয়। রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি, মাঠ-ঘাট এমনকি গাছের সাথে ঝুলে ছিরো শত শত মানুষের মৃতদেহ। দুর্যোগের সেদিনে জলোচ্ছ্বাসে গৃহহীন হয়ে পরে লাখ লাখ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় চর কুকুরি-মুকুরির মানুষের। সেখানে প্রায় সকলেই সেদিনের জলোচ্ছ্বাসে প্রাণ হারায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৯৭০ সালের এই দিনটি ছিল রোজার দিন। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিসহ টানা বাতাস বই ছিল সারা দিন। উপকূলের উপর দিয়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। শুধু রেখে যায় ধ্বংসযজ্ঞ। বহু মানুষ তাদের প্রিয়জনের লাশ খুঁজেও পায়নি। জলচ্ছাসের পর থেকে দেড়মাস পর্যন্ত স্বজন হারানোদের কান্নায় উপকূলের আকাশ পাতাল ভারী ছিল। গত ৫০ বছরের যে কয়টি ঘুর্নীঝড়ের হয়েছে তার মধ্যে ৭০’র ঝড়টি সব চাইতে হিংস্র ছিল বলে দাবী করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ৭০’র এর হারিকেনরুপী ঝড়টি উপকূলীয় ভোলা, বরিশাল, বরগুনা, লক্ষ্মীপুর, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, খুলনাসহ ১৮টি জেলায় আঘাত হানে। তৎকালীন সময় তথ্যপ্রযুক্তি অনেকটা দুর্বল থাকায় উপকূলে অনেক মানুষই ঝড়ের পূর্বভাস পায়নি। ওই জলচ্ছাস হয়েছিল ৮/১০ ফুট উচ্চতায়। কেউ গাছের ডালে, কেউ উচু ছাদে আশ্রয় নিয়ে কোনমতে প্রাণে রক্ষা পেলেও ৩/৪ দিন তাদের অভুক্ত কাটাতে হয়েছে।

লালমোহন উপজেলার মঙ্গল শিকদার গ্রামের মেঘনাথ চন্দ্র শীল স্বজন হারানো একজন। ওই সময় ১২ বছরের মেঘনাথ পরিবারের ৬ সদস্যের মধ্যে বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য। তিনি সেদিনের ভয়াল স্মৃতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, সকাল থেকেই আকাশ মেঘে আচ্ছন্ন ছিল। দুপুরের পর থেকে আস্তে অস্তে বাতাস বইতে শুরু করে। বিকেলের দিকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। সন্ধ্যায় বাতাসের বেগ বাড়তে থাকে। এর পর বাতাস ও বৃষ্টির প্রচন্ডতা বেড়ে যায়। রাত ২ টা আড়াইটার দিকে মেঘনা-তেতুঁলিয়া ও বঙ্গোপসাগরের জলচ্ছাসের পানি ১৪ ফুট উচুঁ বেড়িবাধের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গোটা জেলা তলিয়ে যায়। এ সময় মির্জাকালু বাজারে “পানি আসতেছে” বলে আশ-পাশ থেকে বহু নারী, পুরুষ ও শিশু ছুটোছুটি করে হাই স্কুলের দোতলায় আশ্রয় নেন। তিনি আরো বলেন, পরদিন ১৩ নভেম্বর ভোরে পানি যখন নামতে শুরু করে তখন প্রচন্ড বেগে জলচ্ছাসের পানির স্রোতে মাছ ধরার ট্রলার ও লঞ্চ বাজারে এসে পরে। পানিতে ভেসে যাচ্ছে অগনিত মানুষের লাশ। বিভিন্ন গাছের মাথায় ঝুলতে দেখা গেছে মানুষ ও পশুর মৃতদেহ। চারিদিকে শুধু লাশ আর লাশ। যেন লাশের মিছিল হয়েছিল সেদিনের জলচ্ছাসে। গোটা জেলাকে তছতছ করে মৃত্যুপূরীতে পরিনত করে দিয়েছিলো।

ঝড়ের বর্ণনা করতে গিয়ে মনপুরার মফিজ মিয়া বলেন, ওই এলাকার বৃদ্ধা মফিজা খাতুন সেই ভয়াল সাম্রদ্রিক জলচ্ছাস ও ঘুর্ণি ঝড়ের সময় অথৈ পানিতে একটি ভাসমান কাঠ ধরে প্রায়মৃত অবস্থায় গভীর সাগরের দিকে তিনি ভেসে যাচ্ছিলেন। কে বা কারা ঐদিন তাকে উদ্ধার করে। যখন তার জ্ঞান ফেরে তখন তিনি নোয়াখালীর একটি হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।

লালমোহন উপজেলার হারুন বেপারী বলেন সে দিন বাজারে ১০/১২ ফুট পানি ছিল। জলচ্ছাসে তিনি পরিবারের সবাইকে হারিয়েছেন।

চরফ্যাশনের চর কুকরী-মুকরী ইউনিয়নের বাসিন্দা জহুরা বেগম বলেন, ওই বন্যায় সেখানে ১৩/১৪ ফুট পানি ওঠেছিল। ঝড়ে তিনি ২ মেয়ে ও ১ ছেলে হারিয়েছেন। ভোরের আলো ফুটতেই দেখা গিয়েছিল বাদুড়ের মতো মানুষকে গাছে ঝুলে থাকতে। কেউ মৃত কেউ অজ্ঞান। স্রোতের টানে শরীরের বস্ত্র ভেসে গেছে নারী-পুরুষ নির্বিচারে। চারিদিকে ছিল শুধু লাশ আর লাশ। এক টুকরো কাপড় পেলে আব্রু ঢেকেছিল জীবিতরা। সেদিন বিনা জানাজায় কবর দেয়া হয় বহু মৃতদের।

ভোলার ইতিহাস যতদিন থাকবে ঠিক ততদিনই উপকুলীয় বাসী (১২ নভেম্বর) এই দিনটির কথা কোনদিনই ভুলবেন না। পনি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার তথ্য মতে ওই ঝড়ে উপকূলীয় এলাকার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সরকারী হিসেবে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার।

এদিকে, ১২ নভেম্বর দিনটিকে স্মরন রাখতে জেলা প্রশাসন, ভোলা প্রেসক্লাব, তজুমদ্দিন প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন আজ স্মৃতিচারণ, শোক পালন ও দোয়া মাহফিলের আয়জনসহ নানা কর্মসূচী পালন করবে।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বশেষ খবর

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © monpuratimes.com 2020.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com