1. info@monpuratimes.com : admin :
মনপুরায় জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবীতে হাজারো মানুষের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ | Monpura Times
সংবাদ শিরোনাম :
মনপুরায় ১০ ফুট লম্বা বিরল প্রজাতির চিচিঙ্গা চাষে কলেজ শিক্ষকের সফলতা মনপুরায় খালের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু ও দুই শিশু নিখোঁজ মনপুরায় ব্যবসায়ী কল্যান সমিতি কর্তৃক হাজির হাট ইউপি চেয়ারম্যান সংবর্ধিত মনপুরায় সমুদ্রগামী ৩ হাজার ২৫৮ জেলের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরন মনপুরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের মতবিনিময় মনপুরায় আমন ধানের ১৮০ হেক্টর বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি, দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা মনপুরায় বেড়ীবাঁধ ভাঙ্গনের মুখে, কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা মনপুরায় সাংবাদিকদের সাথে নবনির্বাচিত হাজিরহাট ইউপি চেয়ারম্যানের মতবিনিময় মনপুরায় স্বেচ্ছাসেবকলীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত “বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বিশ্বে রোল মডেল”-এমপি জ্যাকব
বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের পত্রিকায় আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন contact@monpuratimes.com অথবা admin@monpuratimes.com ।
মনপুরায় জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবীতে হাজারো মানুষের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

মনপুরায় জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবীতে হাজারো মানুষের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

মোঃ ছালাহ উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

“সৌরবিদ্যুতের আলো মিটিমিটি করে জ্বলে। এটা কোন শক্তিশালী বিদ্যুৎ নয়। সাধারন বিদ্যুৎ খরচের তুলনায় এই বিদ্যুতের খরচ চার থেকে পাঁচগুন বেশী। ফলে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপ উপজেলার গরীব ও অসহায় মানুষগুলোর মরার উপর খরার ঘা হয়ে চেপে বসেছে সোলার বিদ্যুৎ। আমরা এই বিদ্যুৎ চাইনা। আমাদের দাবী একটাই, জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ চাই।” ৩রা জুন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ‘জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ চাই আন্দোলন নাগরিক কমিটি’র আহবায়ক এএফএম রিয়াদ হোসেন এসব কথা বলেন।

বঙ্গোপসাগরের কোলঘেষে জেগে ওঠা একটি দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। জেলা সদর থেকে এখানকার দুরত্ব প্রায় ৮০ কি.মি.। এখানে প্রায় দেড় লক্ষ লোকের বসবাস। বাসিন্দাদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ জেলে, কৃষক এবং দিনমজুর। সকল ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত এই জনপদের মানুষের প্রধান সমস্যা বিদ্যুৎ। উপজেলা সদরে প্রায় ৮ শতাধিক গ্রাহক সন্ধ্যা থেকে রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়ে আসলেও উপজেলার বাকি ৩টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত ছিল। এই দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে প্রথমে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে সোলার মিনি গ্রীড স্থাপন করে গ্রাহকদের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। পরে বাকি দুইটি ইউনিয়নেও দুইটি সোলার মিনি গ্রীডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে গ্রাহকদের মাঝে।

গ্রাহকরা প্রথমে ভেবেছিল যেহেতু সূর্যের আলো ব্যবহার করে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম সস্তাই হবে। কিন্তু সেই সোলার বিদ্যুৎ এখন মানুষের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ ইউনিট বিদ্যুত বাবদ খরচ নিচ্ছে ৩০ টাকা। একজন গ্রাহক প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফ্যান ও বাতি এবং একটি ফ্রিজ ব্যবহার করলে তাকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। অনেক গ্রাহক’কে আরো বেশীও হয়। বিদ্যুৎ বিল বেশী হওয়ার কারনে অনেকে প্রয়োজন থাকা সত্বেও লাইট বন্ধ করে রাখে। প্রচন্ড গরমের সময় অধিক বিলের ভয়ে ফ্যান না চালাতেও দেখা গেছে। অনেকে দিনের বেশিরভাগ সময়ে ফ্রিজের লাইন বন্ধ করে রাখেন। বিলের সাথে প্রতি মাসে ৭০ টাকা সার্ভিস চার্জ বাধ্যতামূলকতো রয়েছেই। বিদ্যুৎ বিল দিতে দিতে গ্রাহকদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহন করা মানুষগুলো জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ দাবী করে বলেন, দেখুন আমরা মনপুরাবাসী কতবড় বৈষম্যের স্বীকার। পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে ফরিদপুরের দূর্গম চরে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ গিয়েছে। সেখানে মাত্র ১০ হাজার পরিবার তবুও সেখানে বিদ্যুৎ গেল। এছাড়া ভোলা সদরের ভবানীপুর, মেদুয়া ও কাচিয়া চর। তজুমদ্দিন উপজেলার মলংচরা, সোনাপুর, চর জহিরউদ্দিন, চর মোজাম্মেল ও চর আবদুল্লাহ। চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি-মুকরি ও মুজিবনগর সহ দেশের ১৬টি চরে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়ার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। অথচ দেড়লক্ষ লোকের আবাসভূমি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা একটি উপজেলা হওয়া সত্বেও সাবমেরিন ক্যাবলের আওতায় আসেনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিব শতবর্ষে সবগুলো চরে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন।
কিন্তু অদৃশ্য একটি শক্তির কারনে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হচ্ছেনা এই উপজেলায়। তারা চাচ্ছেন, পুরো মনপুরায় সোলার মিনি গ্রীডের মাধ্যমে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে। এটা বাস্তবায়ন হলে এখানকার মানুষ ৩০ টাকা প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিল দিতে না পেরে বিদ্যুতের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে। এবং একটা সময় তারা বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে পড়বেন বলে আশংকা করছেন সচেতন মহল।

মানববন্ধনে ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেট নিয়ে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহন করে তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ খাতের সাফল্য তাৎপর্যময় ও প্রশংসনীয়। সরকার নিরলসভাবে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন করে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে গ্রামগুলিও বিদ্যুতের আওতায় আসছে। কিন্তু প্রায় ৫ শতাধিক বছরের পুরোনো এই দ্বীপের মানুষ এখনো নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত। আমরা সোলার বিদ্যুৎ চাইনা, চাই জাতীয় গ্রীডের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ।

মনববন্ধনশেষ প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি মাধ্যম হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পৌছে দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে মনপুরা উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি একেএম শাহাজান, হাজীর হাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দ্বীপক, দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অলি উল্লাহ কাজল, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন, বিআরডিবি’র সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নিজামউদ্দিন মিয়া, মনপুরা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মিলন মাতাব্বর, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম শাহীন, উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি নিজামউদ্দিন হাওলাদার, মনপুরা প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর (দক্ষিন) ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম ফারেজ সামী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শামছুদ্দিন সাগর উপস্থিত থেকে দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

এছাড়া মনপুরা জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ চাই আন্দোলন নাগরিক কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন সফল করার জন্য সর্বাত্মক সহযোগীতা করেছেন এএফএম রিয়াদ. আঃ সামাদ মাতাব্বর, সাগর ফরাজী, ইব্রাহীম মেজবাহ, নাজমুল হোসেন, মোঃ রাকিব, নাদিম, বিন ইয়ামিন সিফাত, মোঃ জাবেদ, এইচ ইউ নাঈম, নাহিদ প্রমূখ।

এব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীম মিঞা বলেন, একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বশেষ খবর

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © monpuratimes.com 2020.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com